সব চরিত্র কাল্পনিক নয় (৬)

Ayan Ghosh's avatarPosted by

দুপুরবেলা, কিন্তু আকাশের মুখ ভার। বৃষ্টি নেমেছে সকাল থেকে আজ। মাঝে মধ্যে থামছে, আর সেই সময়টা দমকা হাওয়ার আসা যাওয়া চলছে। ফুটপাথের দোকানের টিনের চাল বেয়ে নামা জল টুপটাপ পড়ছে মাথার ওপর, কখনো কাঁধের ওপর। শার্ট ভিজে যাচ্ছে। চুলের মধ্যে দিয়ে বৃষ্টির সেই টিপটিপ জল চুঁইয়ে নামছে পিঠে, শিরশিরানি নেমে আসছে পিঠ বেয়ে সারা শরীরে।

রাস্তায় এরই মধ্যে জল জমেছে, ধারের দিকগুলোতে। চলতি কোনও ট্যাক্সি হঠাৎ দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে সেই জলপথ, হালকা ফোয়ারা হয়ে সেই জল নামছে ফুটপাথের ওপর। আনমনা ফুটপাথবিলাসী কুকুর চমকে উঠে জড়সড় সেই জলের ঝাপটায়।

ছোটখাটো ষ্টেশনারী দোকান, খদ্দের বিশেষ নেই, এই অকাল বর্ষার দুপুরে। আজ সরস্বতী পুজো, ছুটির দিন। তবুও একআধজন চলতি মানুষ দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন দোকানের সামনে। প্রৌঢ় দোকানি আড়চোখে দেখে নিয়ে আবার ডুব দিচ্ছেন হাতে ধরা সকালের খবরের কাগজে। একটু বিরক্তি এলেও কিই বা বলা যায়। ফুটপাথে নেমে আসা টিনের চালটা যদি কয়েক মিনিটের সাময়িক আশ্রয় দেয়, তাই সই। বৃষ্টিটা একটু কমলে আবার এগোনো যাবে।

ষ্টেশনারী দোকানের একটু কোনাকুনি ফুটপাথের চায়ের দোকানটায় ভিড় আছে। ধোঁয়াওঠা কয়লার উনুনে বড় সসপ্যানে ফুটছে গরম চা, ব্যস্ত হাতে দোকানি সসপ্যান থেকে চা ঢালছে একটা টোলখাওয়া কালিপড়া কেটলিতে। সামনে ছোট কাঠের অস্থায়ী টেবিলে কাঁচের গ্লাসগুলো গরম জল দিয়ে ধুয়ে রাখা। টেবিলে রাখা কাঁচের বোয়ামে বাপুজি কেক, লেড়ে বিস্কুট, শুকনো গজা। মাথার ওপরে তেরপলের ছাদ, নিচে পথচলতি মানুষ, গরম চা আর একটু উষ্ণতার আকর্ষণে।

ষ্টেশনারী দোকান থেকে একটা সিগারেট কিনে চায়ের দিকে এগোলো ছেলেটা। সময় কাটাতে গেলে চা আর সিগারেট, এই ভরসা, এই বর্ষায়। প্রায় আধভেজা, ছাতা নিয়ে চলার অভ্যেস নেই, তায় আবার আজ এইদিনে। তবে কলকাতার বৃষ্টি তার ভারি ভালো লাগে, এমনকি এই অসময়েও। শহরটা কেমন অচেনা হয়ে ওঠে বৃষ্টি এলে। ভেজা রাস্তা, ভিজে যাওয়া মানুষ, ভেজা ট্রামবাস। জমে থাকা ধুলোর পরত সরে গিয়ে মায়াবি সবুজ হয়ে ওঠা ভিজে গাছের পাতা। জমে থাকা অবসাদ, ক্লান্তি, নিরাশা ধুয়ে ধারাস্নানসারা ভেজা মন।

বৃষ্টি পড়লে মানুষের মনও নরম হয়ে যায়। সিগারেটটা ধরাতে পারছিল না ছেলেটা, এই দমকা হাওয়ার মধ্যে। দেশলাইকাঠিগুলো একের পর এক নিভে যাচ্ছে জ্বলা মাত্র। চায়ের গ্লাস হাতে পাশের মাঝবয়েসী ভদ্রলোকটি পকেট হাতড়ে লাইটার বার করে এগিয়ে দিলেন, মৃদু হেসে। একটু ইতস্তত করেও নিল ছেলেটা। একপাশ ফিরে সিগারেট ধরিয়ে হাতের মুঠোয় সিগারেটটা আড়াল করে অন্য হাতে লাইটারটা ফেরত দেওয়ার সময় একটা ছোট ধন্যবাদও ফেরত দিল। কয়েকটা আলগা কথাও হল। বৃষ্টি না নামলে কি এই অসমান বন্ধুত্বের সুত্রপাত হতে পারতো?

একটু খেয়াল করে দেখলো ছেলেটা, রাস্তায় বাস মিনিবাস প্রায় চোখেই পড়ছে না। মাঝেমধ্যে একআধটা ট্রাম আসছে। ট্রামে ওঠাই যায়, তবে পুরো রাস্তা সেই ট্রাম যেতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে, বিশেষ করে সামনের আন্ডারপাসটা পেরিয়ে। এই বৃষ্টিতে সেখানে এতক্ষনে ভালোই জল জমবে। তা হোক গে, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার কোন মানে হয় না। সিগারেটটা শেষ করে চায়ের দামটা চুকিয়ে রাস্তায় নেমে এলো সে। ছোট্ট একটা দৌড়ে চলতি ট্রামটার পাশে পৌঁছে গেটের রডটা ধরে হালকা একটা স্টেপ-এ পাদানিতে।

খালিই আছে ট্রামটা। জানলার ধারের একটা সিঙ্গল সিটে বসে পকেট থেকে রুমাল বার করে মাথাটা মুছলো ছেলেটা। ভেজা চুলের ভেতর হাত চালাতে চালাতে অন্যমনস্ক ভাবে বাইরের চলমান রাস্তায় চোখ রাখলো সে। আরও কিছু পথ, আরও কিছু সময় আছে হাতে।

……………………………………………       

সকাল থেকে মন ভার মেয়েটির। সুন্দর একটা দিনের অপেক্ষায় বসে থাকা এতদিন ধরে, আর আজই বৃষ্টি নামলো।

কলকাতার বৃষ্টি তার ভালো লাগে না। রাস্তায় চলাফেরা আরও কঠিন হয়ে যায়। বাস মিনিবাসের ভিড়ে সে এমনিতেই স্বচ্ছন্দ না, বৃষ্টিতে আরও না। বাড়ি থেকে কলেজ বহুদিন সে হেঁটেই যাতায়াত করেছে। হাঁটতে তার ভালো লাগে। এই কলকাতা শহরের ভেতর দিয়ে বহু পথ হেঁটেছে সে। তবে একা নয়। একজন আছে যে তারই মতো এই শহরের আঘ্রাণ নিতে চায় পথে নেমে।

ট্রামে চাপতে কিন্তু মন্দ লাগে না। ময়দান থেকে হাঁটতে হাঁটতে তারা এসপ্ল্যানেড পৌঁছয় যখন, তখন মাঝেমধ্যে কার্জন পার্কে ফিরতি ট্রামটাকে টুংটাং শব্দে আড়মোড়া ভেঙে এগোতে দেখে ঝটিতি উঠে পড়ে। বসার সিটও পাওয়া যায়, সাথে বাদাম আর ঝাল লজেন্স।

আর কখনোসখনো বাসে চেপে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রদক্ষিণ করতে ইচ্ছে করে তাদের। উল্টোডাঙা থেকে সল্টলেক ছুঁয়ে ফাঁকা বাইপাস ধরে ছুটে চলা সরকারি বাসে পাশাপাশি সিটে বসে গল্প করে তারা। খোলা জানলা দিয়ে তীব্র হাওয়া এসে এলোমেলো করে দেয় চুল। আলগোছে কপাল থেকে সেই চুল সরাতে গিয়ে খেয়াল হয় যে আরেকজন মায়াবী চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে।     

সকালে স্নান করে বাড়ির পুজো মিটিয়েছে সে তাড়াতাড়ি। ছোট করে পুজো, চলে আসছে তার মেয়েবেলা থেকেই। তবে অঞ্জলি দিয়েছে পাড়ার প্যান্ডেলে গিয়েই। অল্প করে প্রসাদ খেয়েই বাড়িতে আবার, তৈরি হতে হবে তো বেরোনোর জন্যে। তবে এই বৃষ্টিতে আজ কতটা পথ হাঁটবে তারা?

বাড়ির সামনের রাস্তায় গোড়ালি অবধি জল। উল্টোদিকের বাসস্টপে ভেজা মানুষের জমায়েত। ছাতায় বৃষ্টির ফোঁটা কিছুটা আটকালেও ছাঁট আটকানো যাচ্ছে না। এইটুকু আসতেই ভিজে গেল মেয়েটি। তাও ভাগ্যিস আজ শাড়ি পরেনি সে। বাসন্তি রঙের মায়া কাটিয়ে গতবার পুজোয় কেনা দুধসাদা সালওয়ার কামিজটা বার করেছিল আলমারি থেকে, সঙ্গে রামধনু রঙের ওড়না। বেরোনোর আগে আয়নায় নিজেকে দেখে ভালো লেগেছিল তার, মনটাও একটু ভালো হয়েছিল।

বাসস্টপে কিছু কৌতূহলী চোখ পরখ করছিলো তাকে, তাদের এড়াতেই যেন মেয়েটি ছাতাটা কিছুটা আড়াল করে ধরলো নিজের দিকে। কিভাবে যাবে তার গন্তব্যে, সে চিন্তাই মাথায় ঘুরছে। বাসে ওঠা অসম্ভব, একটা দুটো যাও বা আসছে বাদুড়ঝোলা ভিড় তাতে। কি করা যায়? চিন্তা রএকটা ছোট মেঘ ক্রমশ ঘন হয়ে উঠছে তার মনের ঈশানকোণে। মনকে কিছুটা অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্যেই ইচ্ছে করে অন্যমনস্ক হতে চাইলো মেয়েটি।

মাঝে মাঝে তার আর ভালো লাগে না এই শহর, এই পরিচিত জনজীবন।হাঁপিয়ে উঠেছে সে এই স্থবিরতার মধ্যে দিন কাটিয়ে। দূরে অন্য কোথাও চলে গিয়ে এক নতুন অধ্যায় শুরু করার আহ্বান আসে মায়াবী এক স্বপ্নের হাতছানি নিয়ে। কিন্তু তার নিজস্ব ভালোলাগা, চাহিদার মাঝে যখন এসে ভিড় করে তার বাস্তব পরিস্থিতি, তখন সেই টানাপড়েনে হারিয়ে যেতে থাকে সেই স্বপ্ন। তাই পিছুটান কাটিয়ে ওঠা কতটা কঠিন হতে পারে, সে আভাস পেয়েছে সে এর মধ্যেই, বহুবার।    

এইরকম এই দিনগুলো তাই খুব বিশেষ তার কাছে। কলকাতার পথেঘাটে রোদ জল বৃষ্টি আকাশ সব মাথায় নিয়েও পথ হাঁটা, একসাথে চলা, কথা বলা, স্তব্ধতার অনুভুতি উপলব্ধি করা, ছেঁড়া ছেঁড়া স্বপ্নগুলো একসাথে সাজানো, এভাবেই তার বর্তমান আবর্তিত হচ্ছে ভবিষ্যতের চারপাশে। একদিন ঠিকই মিলেমিশে যাবে তার দুই পৃথিবী, শুধু আরও একটু পথচলা বাকি।

একটা টানা রিকশা ঠনঠন করতে করতে এসে দাঁড়ালো ফুটপাথটার সামনে। রিকশাটা নামিয়ে কাকভেজা রোগাভোগা রিকশাওয়ালা সিটের সামনের প্লাস্টিকের পর্দাটা একপাশে সরিয়ে দিল। আর বিলম্ব না করে দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল মেয়েটি তার দিকে, যতটা যাওয়া যায় যাবে রিকশাতেই, তারপর দেখা যাবে।  এভাবেই এগোতে হবে একটু একটু করে, পথেই হবে বাকি পথ চেনা।

………………………………………………………………………

যা ভেবেছিল ছেলেটা, তাই হল আর কি। ট্রাম আন্ডারপাসের আগেই দাঁড়িয়ে গেল, এক কোমর জলের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেবেন না চালক। অগত্যা নেমে পড়তে হল, এই বৃষ্টি মাথায় করেই। ভাগ্যিস আন্ডারপাসটার দুধারে একটু উঁচু ফুটপাথ মত করা আছে, সেখান দিয়েই কিছু লোক রেলিং ধরে হাঁটু জল ভেঙে পেরিয়ে চলেছে, প্যান্ট গুটিয়ে নিয়ে ছেলেটা সেই দিকেই এগোলো।

এপারে তো আরও খারাপ অবস্থা। সারি দিয়ে কিছু ট্রাম দাঁড়িয়ে রয়েছে, কয়েকটা অটো রাস্তার একপাশে পড়ে রয়েছে, তাদের চালকরা বোধহয় যাত্রীর আশা ছেড়ে ভাতঘুম দিতে গেছে। লোকজন বেশি নেই।

এদিকে আকাশ আরও কালো করে আসছে। টিপটিপ ভিজতে ভিজতেই ঠিক করে নিল ছেলেটা এবার হাঁটা ছাড়া গতি নেই আর। পথ বেশ খানিকটা অতিক্রম করতে হবে, তিনটে বাস স্টপ মানে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা। ঝেঁপে বৃষ্টি নামার আগেই শেষ করা দরকার। ছপছপিয়ে জল ভেঙে ফুটপাথ ঘেঁষে এগোতে লাগলো সে। দেখা যাক কে আগে পৌঁছতে পারে।

………………………………………………………………………………………

রিকশাটা চলছে ঠিকই, কিন্তু একটু মায়াই হচ্ছে মেয়েটির রিকশাওয়ালার জন্যে। বেচারা এই ঝড়জলে টানতেও পারছেনা রিকশাটা ঠিক করে। তার ওপর রাস্তার খানাখন্দ কোথায় কি আছে কে জানে, একবার গর্তে চাকা পড়লে সবসুদ্ধ উল্টে পাল্টে যাবে। দুএকবার বলেছে সে, আস্তে আস্তে চালাতে। ভাড়া নিয়ে কোনও দরদামও করেনি সে, তাই রিকশাওয়ালা এইরকম সওয়ারি পেয়ে খুশিই আছে। তবুও বেশ গোলমেলে, এই বর্ষাকালে কলকাতায় রিকশা চড়া।

প্লাস্টিকের পর্দার ফাঁক দিয়ে যেটুকু রাস্তা দেখা যাচ্ছে, সেখানে জমা জল ছাড়া বিশেষ কিছুই চোখে পড়ছে না। হঠাৎই, হ্যাঁ ওইতো, ওটা একটা ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে না? ফাঁকাই তো মনে হচ্ছে। তাড়াতাড়ি রিকশাটাকে পাশে দাঁড় করাতে বললো মেয়েটি, একটা সুযোগ নিয়ে দেখাই যাক না। হ্যাঁ ভেতরে ড্রাইভার সাহেবও রয়েছেন, যদিও কাঁচ তোলা তাই ঠিক ঠাহর করা যাচ্ছে না। রিকশাটা ট্যাক্সির পাশে এসে দাঁড়ালে মেয়েটি ওপর থেকেই ইশারা করলো, যাবেন কি?

জল ভেঙে চলেছে ট্যাক্সিটা, তার উৎকণ্ঠিত সওয়ারিটি হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখছে যে সময় হয়ে এসেছে প্রায়।  সে জানে যে আরো একজন ঠিক এইভাবেই, এই দুর্যোগ মাথায় করেও ঠিকই পৌঁছে গিয়ে থাকবে। সাধারণত দেরি সে করে না, বরং তারই অভ্যাস দেরিতে পৌছনোর। আর কতদুর?

………………………………………………………………………………………             

ছেলেটা এসে গেছে সেই নির্ধারিত বাস স্টপের সামনে, যেখানে তাদের বরাবর দেখা হয়। এখান থেকে ঠিক করে তারা শহরের কোন প্রান্ত ধরে পথ পরিক্রমা করবে সেদিন। এই বাসস্টপ যেন আজন্মকাল ছিল, আছে, থাকবে, ভাঙা ছাদ  রঙ-ওঠা রেলিং নিয়ে, শুধু তাদেরই অপেক্ষায়, থেমে থাকা সময়কে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু আজ কেউ নেই সেখানে এখনো। এসে পৌঁছয়নি তাহলে… আজ আর আসতে পারবে বোধহয়। হঠাৎই যেন আকাশের অন্ধকার নেমে এলো তার চোখেমুখে, ভিজে চুল আর জামা চেপে বসছে তার গায়ে মাথায়, একটু দিগভ্রান্তের মতোই এদিক সেদিক তাকাচ্ছে ছেলেটা।

ঠিক তখনই ট্যাক্সিটা এসে দাঁড়ালো বাসস্টপটার সামনে, একটু ধার ঘেঁষে। দরজাটা খুলে গেল, কয়েক মুহূর্ত পরে ছাতা খুলে নেমে দাঁড়ালো মেয়েটি, তারও নজর ওই বাসস্টপের ওই খালি রেলিংটার দিকে। সাধারণত এখানেই হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায় সে। কেউ তো নেই আজ, তাহলে কি… তাহলে এত যত্ন করে জমিয়ে রাখা কথা, বলা হবে না আজ। মনটা খারাপ হয়ে গেল ভীষণই, এই জন্যেই তার বৃষ্টি এই কলকাতায় ভালো লাগে না।

……………………………………………………………………………………………………

ফুটপাথের এক কোণে তেরপলের সাময়িক আচ্ছাদনের আড়ালে বসে থাকা বুড়ো ভিখিরি একমনে বিড়ি ধরাচ্ছিলো একটা। বড় হাওয়া দিচ্ছে, তাই একপাশে ঘেঁষে দেশলাই জ্বালাতে গিয়ে সামনের ফাঁকা বাসস্টপটা ভালো করে নজরে এলো তার।

দেখলো সে এই ঝড়জলের মধ্যেই একটা ছেলে এসে দাঁড়ালো সামনেটায়। সপসপে ভিজে, কিন্তু তাও ছটফটে চেহারা। ঠিক তার সামনেই থামলো ট্যাক্সি একটা, নেমে এলো একটা মেয়ে, আকাশের সব রঙ নিয়ে, একটা গোলাপি ছাতা মাথায় দিয়ে। ঘুরলো দুজনেই, দেখলো দুজনে দুজনকে। কয়েক মুহূর্ত এমনি কেটে গেল। তারপর মেয়েটি এসে ছেলেটার মাথায় ছাতাটা ধরলো, আর দুজনে আস্তে আস্তে এগিয়ে গেল ওই জমা জল ভেঙে, রাস্তাটা পেরিয়ে।   

বৃষ্টির তেজ এত বেড়েছে যে ঝাপসা হয়ে আসছে চারপাশ। ঝাপসা সেই বৃষ্টিতে ছাতা আর মানুষদুটোকে মিলিয়ে যেতে দেখতে দেখতেই আরামে বিড়িতে টান দিল বুড়ো।

আকাশ মেঘ জল রঙ সব কখনো কখনো মিলে মিশে যায় এই শহরের ক্যানভাসে।

Leave a comment